পূজোর খুশিতে দুচোখে ঝরে
জল
আকাশে বাতাসে শুধু ভেসে
আসে
নব আগমনী গান
শিউলি ফুলের গাছে কত ফুল
ফুটে আছে
সৌরভে
সুরভিত প্রাণ।
মৌমাছির গুঞ্জন কাশ ফুলের বন
দূরে
অজয়নদীর বাঁক।
সোনালী রোদ্দুরে ঢাকে কাঠি পড়ে
ঢাকীরা
আনন্দে বাজায় ঢাক।
পূজোর বাজার হাট ব্যস্ত দোকানপাট
চারিদিকে
শুধু হাঁকডাক।
নতুন নতুন জামাকাপড় কেহ কিনে
ধূতিচাদর
আর
পাঞ্জাবী পূজোর পোশাক।
লগ্ন চিকন বালুচরী কিনবে পুজোয়
বঙ্গনারী
আঁচলে
সূক্ষ্ম জরির কাজ।
গাজিসিল্ক, লুধিয়ানা শাড়ীপ্রিয় বঙ্গললনা
আলতা
শাঁখাসিঁদুর মা দুর্গার সাজ।
ছোট ছোট ছেলেমেয়ে এক বুক
আশা নিয়ে
মা-বাবার
হাত ধরে ধায়।
পটকা, বেলুন, বাঁশি খেলনা কত রাশি
রাশি
সবকিছুই
কিনতে মন চায়।
ঐ যে দেখি
ছোট্ট মেয়ে কাঁদছে পড়ে ধূলায়
শুয়ে
মুখে
তার মিলিয়ে গেছে হাসি।
রাগিয়া আগুন মেয়ে সারাদিন না
খেয়ে
অবুঝ
মেয়ে থাকে উপবাসী।
ঘরে কাঁদে ছোট্ট
খোকা বাবার
হাতে নেই টাকা
পূজোর
বোনাস পায় না বছর শেষে।
বাবা মায়ের মুখভার কিসে হবে
পূজোর বাজার
খুশির
দিনে দু’চোখে জল
আসে।
মা আসবেন দোলায়
চড়ে অন্ন নাইকো
চাষীর ঘরে
নতুন
গামছা কেনার পয়সা নাই
গত বছরে হয়নি
ধান বাঁচবে কিসে
চাষীর প্রাণ
ভাবে চাষী কি হবে উপায়?
পূজোর সময় এলো
কাছে খেত
ধানে ভরে আছে
সবুজ
সবুজ দেখায় চারিদিক।
ভোরে কচি ঘাসের
পরে চারদিকে শিশির
পড়ে
সূর্যের
আলোয় তারা করে ঝিকমিক।
No comments:
Post a Comment