Thursday, 9 October 2014

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

ধরাধামে শুক্লপক্ষে শারদ পূর্ণিমা
প্রচারিতে লক্ষ্মী দেবী আপন মহিমা
বিরাজ করেন দেবী প্রতি ঘরে ঘরে,
সাজায় মঙ্গল ঘট দেবী পূজা তরে
শোভিছে পুষ্পিত ঘট, বিল্বপত্র শাখা,
প্রাঙ্গন চৌদিকে শোভে আলপনা আঁকা
এয়োগণ উলু দেন জয়ঢাক বাজে,
শিশুগণ নৃত্য করে আঙিনার মাঝে
জ্বলে দীপ শঙ্খ বাজে, প্রসাদের থালা,
কলাগাছ,পানপাতা, বরণের ডালা
ধূপদীপ মাঙ্গলিক পূজা উপচার,
এসো দেবী, বসো ঘরে ডাকি বারেবার
সর্বশেষে অন্নভোগ প্রসাদ বণ্টন,
লক্ষ্মী পাঁচালির কথা শুন দিয়া মন


মহা নবমী বিজয়াদশমী

মহা নবমীর পূজা খ্যাত চরাচরে
ছাগ মোষ বলিদান মন্দিরে মন্দিরে
পশুরক্তে দেবীপূজা কেমন পূজা?
পশুরক্তে হন তুষ্টা দেবী দশভূজা

বলিহারি দূর্গাপূজা ধন্য মর্ত্তলোক,
হাজারের হিসাবেতে পাঁঠাবলি হোক
শোন শোন বিশ্ববাসী বচন আমার,
বন্ধ হোক পশুবলি ভুবন মাঝার,

এসো এসো সবে মিলি করহ প্রার্থনা,
বলিহীন হবে পূজা বিধি মানব না
নবমী সমাপ্ত হয়ে বিজয়া দশমী,
এক দিনে দুই পূজা কভু নাহি শুনি

মুগ্ধ চিত্তে দেখে সবে পুড়িছে রাবণ,
ঢাক বাজে, কাঁসি বাজে, দেবী বিসর্জন




Tuesday, 7 October 2014

মহানবমী বিজয়াদশমী

মহা নবমীর পূজা খ্যাত চরাচরে
ছাগ মোষ বলিদান মন্দিরে মন্দিরে
পশুরক্তে দেবীপূজা কেমন পূজা?
পশুরক্তে হন তুষ্টা দেবী দশভূজা

বলিহারি দূর্গাপূজা ধন্য মর্ত্তলোক,
হাজারের হিসাবেতে পাঁঠাবলি হোক
শোন শোন বিশ্ববাসী বচন আমার,
বন্ধ হোক পশুবলি ভুবন মাঝার,

এসো এসো সবে মিলি করহ প্রার্থনা,
বলিহীন হবে পূজা বিধি মানব না
নবমী সমাপ্ত হয়ে বিজয়া দশমী,
এক দিনে দুই পূজা কভু নাহি শুনি

মুগ্ধ চিত্তে দেখে সবে পুড়িছে রাবণ,
ঢাক বাজে, কাঁসি বাজে, দেবী বিসর্জন



Monday, 6 October 2014

মহাসপ্তমী দেবীপূজা

মহিষাসুর মর্দিনী দেবী দশভূজা,
শাস্ত্রমতে সকলেতে করে তব পূজা
আদ্যাশক্তি মহামায়া, পার্বতী শঙ্করী,
দনুজদলনী মাতা দানব সংহারী
আজি মহা সপ্তমীতে দেবীর পূজন,
ঢাক বাজে, শঙ্খ বাজে, হরষিত মন
বাজয়ে কাঁসর ঘণ্টা দেবীর মন্দিরে,
দেবীর মঙ্গল ঘট প্রতি ঘরে ঘরে
মঙ্গল ঘট বসায় ধান দূর্বা ঘাস,
এয়োগণে উলু দেয় থাকি উপবাস
পুরোহিত মন্ত্র পড়ে, ধূপ দীপ জ্বলে,
ভক্তিপুষ্প অর্ঘ্য দেয় চরণ কমলে
সন্তোষিতে মহামায়া, করয়ে বিধান,

অষ্টোত্তর শত নীল পদ্ম করে দান

মহা নবমী বিজয়াদশমী

মহা নবমীর পূজা খ্যাত চরাচরে
ছাগ মোষ বলিদান মন্দিরে মন্দিরে
পশুরক্তে দেবীপূজা কেমন পূজা?
পশুরক্তে হন তুষ্টা দেবী দশভূজা

বলিহারি দূর্গাপূজা ধন্য মর্ত্তলোক,
হাজারের হিসাবেতে পাঁঠাবলি হোক
শোন শোন বিশ্ববাসী বচন আমার,
বন্ধ হোক পশুবলি ভুবন মাঝার,

এসো এসো সবে মিলি করহ প্রার্থনা,
বলিহীন হবে পূজা বিধি মানব না
নবমী সমাপ্ত হয়ে বিজয়া দশমী,
এক দিনে দুই পূজা কভু নাহি শুনি

মুগ্ধ চিত্তে দেখে সবে পুড়িছে রাবণ,
ঢাক বাজে, কাঁসি বাজে, দেবী বিসর্জন



Wednesday, 1 October 2014

ক্ষুধিত বাঘের মুখে

পূজোর সময় এলো কাছে
সময়ের কাঁটা গেছে থেমে,
মৃত্যুগহ্বর চিড়িয়াখানে মাঝে,
এক কিশোর আসে নেমে

পূজোর খুশিতে মেতেছে ভুবন
ঘরে ঘরে দেবীর আহ্বান,
মৃত্যুদ্বারে বসি গাহিছে তরুণ
জীবনের শেষ দিনের জয়গান

মৃত্যুকবলিত সেই কিশোর,
সামনে দেখে ক্ষুধিত এক বাঘ
মৃত্যুভয়ে কাঁপিছে শরীর তার
যূপকাষ্ঠে বাঁধা যেন বলির ছাগ 

বাঘের চোখ দুটো ভয়ংকর!
সামনে তার রয়েছে শিকার,
শিকার পেয়েছে সে বহুদিন পর
কেড়ে নেওয়া সাধ্য আছে কার?

বাঘের সামনে একা ভয়ার্ত কিশোর
মৃত্যুর পদধ্বনি শোনে বারেবার,
গুনিতেছে প্রতি পলে মৃত্যুর প্রহর
পূজো দেখা বুঝি ভাগ্যে নেই তার

মরণের ফাঁদে দিয়েছে পা
পড়ে আছে সে মৃত্যুকূপে
বাঘ এসে থমকে দাঁড়ায়,
সামনে তার মৃত্যুদূতরূপে

বাঘ আছে একদৃষ্টে চেয়ে
পালাবার নাহিক কোন পথ,
জন্মের ঋণ শোধ মৃত্যু দিয়ে
থেমে যাবে এবার জীবনের রথ

ক্ষুধিত বাঘের মুখে কিশোর একা
বাঁচার লড়াই নিয়ে প্রতিযোগিতা
ভুলের প্রায়শ্চিত্ত মৃত্যু দিয়ে,
জীবনের নতুন এক অভিজ্ঞতা

ক্ষুধার্ত বাঘের মুখে ভয়ার্ত কিশোর
বাঁচার লাগি শুধু ব্যর্থ প্রতীক্ষা
জন্মের ঋণ শোধ মৃত্যু দিয়ে
জীবন আর মরণের শেষ পরীক্ষা

জীবনখাতার পাতায় মুছে যায় নাম
শুরু হয় জীবনের শেষ অধ্যায়,
বাঁচার আর এক নাম সংগ্রাম
সামনে এসে বাঘ থমকে দাঁড়ায়

উদ্যত থাবা দিয়ে টুঁটি চেপে ধরে
প্রাণহীন দেহটা মাটিতে লুটায়,
কান্না থেমে যায় আর্তনাদের ভিড়ে
শিকার লয়ে বাঘ জঙ্গলে পালায়

সুরক্ষা বিহীন এই মৃত্যুনগরী
অভিশপ্ত এক চিড়িয়াখানা,
নাহিক কোন সতর্ক প্রহরী,
মৃত্যু দেয় বার বার হানা

পূজার খুশির দিন আনন্দের
আজও শুনি মৃত্যুর কোলাহল,
সন্তানের মৃত্যুতে বাবা-মায়ের
খুশির দিনে দুচোখে ঝরে জল